সর্বশেষ সংবাদ :

    • দৈনিক ফেনীর সময় নতুন ‍আঙ্গিকে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে....

আজ ১৯ অগ্রহায়ন ১৪২২ বঙ্গাব্দ | |

মহান বিজয়ের মাস আজ শুরু

সময় রিপোর্ট : আজ ১ ডিসেম্বর বিজয়ের মাস শুরু। ১৯৭১ সালের এ মাসের ১৬ তারিখে শত্রুমুক্ত হয় দেশ। অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। বিশ্বের মানচিত্রে সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজের স্থান দখল করে বাংলাদেশ। এর আগে ৬ ডিসেম্বর মুক্ত হয় ফেনী।
বিজয় ছিল আনন্দ, উল্লাস ও গৌরবের। সঙ্গে আপনজনকে হারানোর বেদনা, কান্না। তবে বিজয়ের ৪৫ বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে। দেশ আরও সামনে এগিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বাঙালির সম্মুখযুদ্ধে একের পর এক পরাজয়ে পায়ের তলা থেকে মাটিও সরে যেতে থাকে পাক হানাদারদের। তার ওপর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর শাণিত আক্রমণে পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে পাকিস্তানি সৈন্যরা। ইয়াহিয়া বুঝতে পারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। পাকিস্তান পরাজয়ের বিষয়টি বুঝতে পেরে নতুন কূটকৌশল শুরু করে। সম্মুখযুদ্ধের পাশাপাশি কূটনেতিক কৌশলেও হারতে থাকে পাকিস্তান। বাঙালির জন্মভূমি মুক্ত করার লড়াইকে আড়ালে রাখতে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে বেতারে ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান।
কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। মাতৃভূমিকে হানাদারমুক্ত করতে তারা মরণপণ লড়াই চালিয়ে যান। একদিকে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপন যুদ্ধ, অন্যদিকে মিত্রবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণ। প্রাণ বাঁচাতে পাক হানাদাররা বীর বাঙালির কাছে আত্মসমর্পনের পথ খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে বাংলাদেশ দ্রুত মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যায়। লাভ করে স্বাধীনতা।
মাসব্যাপী উৎসাহ-উদ্দীপনায় এবং নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করবে বিজয়ের ৪৫ বছর। প্রতিদিনই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য আত্মৎসর্গকারী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করবে এবং তাদের জন্য মাগফেরাত কামনা করবে।

নিজাম হাজারীর মামলার শুনানী

ঢাকা অফিস : ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা রিটের রায় আজ। বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।
‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ এতে বলা হয়, ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদন্ড হয়। কিন্তু দুই বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সাংসদ পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া। রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে। সে হিসেবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য হতে পারেন না। অথচ তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ৮ জুন হাইকোর্ট রুল দেন। তবে পরে হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চে এই রুল শুনানির জন্য কার্যতালিকায় উঠলেও বেঞ্চ দুটি শুনানিতে বিব্রতবোধ করেন। গত ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের এই বেঞ্চে রুল শুনানি শুরু হয়।
এর আগে হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী কারা মহাপরিদর্শকের পাঠানো প্রতিবেদন ১৯ জুলাই আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, ১০ বছরের সাজার মধ্যে নিজাম হাজারী সাজা খেটেছেন পাঁচ বছর আট মাস ১৯ দিন। কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাজা রেয়াত পেয়েছেন এক বছর আট মাস ২৫ (৬২৫ দিন)। রেয়াতসহ মোট সাজা ভোগ করেছেন সাত বছর পাঁচ মাস ১৪ দিন। এখনো সাজা খাটা বাকি আছে দুই বছর ছয় মাস ১৬ দিন। তিনি মুক্তিপান ২০০৬ সালের ১ জুন।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ দাগনভূঞায় সংখ্যালঘুর বাড়ি দখল করেছে আ’লীগ নেতা

স্টাফ রিপোর্টার : দাগনভূঞা উপজেলার আমানউল্যাহপুরে এক সংখ্যালঘুর বাড়ি দখল করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবদীন মামুন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ওই বাড়িটি দখল করতে প্রধান বিচারপতির রায়কেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পলাশ চন্দ্র সাহা। হুমকি-ধমকির মুখে তারা রাতের আঁধারে বাড়ি-ঘর ছেড়ে ফেনী শহরের সহদেবপুরে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে আওয়ামীলীগ নেতা জয়নাল আবদীন মামুন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী পলাশ চন্দ্র সাহা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, দাগনভূঞার আমান উল্যাহপুরের ক্ষিতিশ চন্দ্র সাহার পালক পুত্র পলাশ সাহা পৈত্রিক ১১ শতক ভূমির উপর পাকা ঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছে। ওই বাড়ী নিয়ে তার বোন শিমুল রানী সাহা ১৯৯৩ সালে ফেনীর সহকারী জজ আদালতে ক্ষিতিশ সাহার জীবদ্দশায় পলাশের বসবাসের বৈধতা নিয়ে মেয়ের আপত্তির প্রেক্ষিতে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তৎকালীন সহকারী জজ বিনয় কুমার মজুমদার দীর্ঘশুনানীর পর পলাশ সাহাকে উক্ত সম্পত্তির মালিকানার বৈধতা দিয়ে রায় প্রদান করেন। ক্ষিতিশ সাহার মৃত্যুার পর শিমুল রানী এ নিয়ে নানান জটিলতার সৃষ্টি করতে চাইলে মা গৌরি রানী সাহা ২০০০ সালে পলাশ সাহার পক্ষে ফেনী জেলা জজ আদালতে মামলা করলে বিচারক গোলাম সরোয়ার ২০১৫ সালের ২২ মে পলাশের পক্ষে পুনরায় মামলা রায় দেন। ২০১৪ সালে পলাশ সাহা আমানউল্যাহপুর মৌজার ৪৩৩/৪১৩ দাগের সম্পদ ৪৮২নং খতিয়ান মুলে জমা খারিজ করিয়ে নেন। দীর্ঘ শুনানী ও পরপর দুই বার আদালত পলাশ সাহার পক্ষে মামলার রায় ঘোষনা করলেও বিবাদী শিমুল রানী সাহা মানতে পারেননি।
লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবদিন মামুন শিমুল রানীর দুই ছেলের কাছ থেকে ক্রয়ের উদ্দেশ্যে জমি বায়নাপত্র সৃজন করে। প্রকৃতপক্ষে শিমুল রানীর ওই জমির বৈধ মালিকানা পেলেও দাগনভূঞা ভূমি অফিস ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী শিমুল রানীর দুই ছেলের নামে প্রভাব খাটিয়ে নামজারী খতিয়ান সৃজন করা হয়। জয়নাল আবেদীন মামুন দাগনভূঞা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে পরপর ৩টি বায়না দলিল প্রভাব খাটিয়ে রেজিষ্ট্রি করে নেয়। এ পরিস্থিতিতে পলাশ সাহা ২০১৪ইং সালে জুন মাসে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালত তার মামলাটি গ্রহন করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের বেঞ্চ উক্ত ভুমির বিষয়ে যাচাই বাছাই পূর্বক ২০ এপ্রিল ২০১৫ইং তারিখে স্থিতাবস্থা জারী করেন। স্থিতাবস্থা জারীর খবর পেয়ে মামুন রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে পলাশ সাহা ও তার পরিবারের সদস্যদের জোরপূর্বক দখল করে। এর প্রেক্ষিতে প্রাণভয়ে স্বজনদের নিয়ে ফেনী শহরের সহদেবপুরে আশ্রয় নেয়। দখলকারিরা পাকা বাড়ীটি দিন-দুপুরে গুড়িয়ে দিয়ে গাছ-পালা কেটে নেয়। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উল্লেখিত জায়গায় বহুতল ভবন নির্মান করতে তড়িঘড়ি করে দাগনভূঞা পৌরসভা থেকে প্ল্যান পাশ করিয়ে নেয়া হয়। ৫ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে কাগজপত্রের ভুয়া দলিল দিয়ে তৎকালীন ভূমি কর্মকর্তা জামশেদ খোন্দকার ও পৌর ভূমি অফিসের তহসিলদার মোহাম্মদ নুর হোসেনকে দিয়ে জমিটির জমাখারিজ করিয়ে দেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
পলাশ চন্দ্র সাহা আরো জানান, তার মালিকীয় জায়গায় নির্মান কাজ বন্ধ ও জয়নাল আবদীন মামুনের ভূয়া বায়না দলিল, জমা খারিজ বাতিল করতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফেরদৌস আরা বেগমের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

ফেনীতে ভ্যাকসিন দেয়ার কথা বলে শিশুদের রক্ত ও টাকা আদায়

সদর প্রতিনিধি : একটি বেসরকারী ভ্যাকসিন সেন্টারের কর্মীরা ফেনী শহরের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা বলে রেক্ত সংগ্রহ করছে। একই সাথে প্রতি শিশু থেকে রক্ত গ্রহণ বাবত নগদ একশত টাকা এবং বিকেলে ওই সেন্টারে গিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন শিশুপ্রতি দেড় হাজার টাকা নিয়ে যেতে বলেছে অভিভাবকদের।
জানা যায়, ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের পাশে উকিল নুরুজ্জামানের সড়কে অবস্থিত লাইফ কেয়ার ভ্যাকসিন সেন্টারের একদল স্টাফ গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় শহরের শান্তি কোম্পানী রোডস্থ তাহের ভিলাসহ আশ পাশের বিভিন্ন ভবনে গিয়ে শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য প্রচারণা চালায়। এই সময় বিভিন্ন রোগের গুজব ছড়িয়ে তারা ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রলুব্দ করে। একই সাথে তারা শিশুদের রক্ত সংগ্রহ করে এবং রক্ত পরীক্ষা বাবত রশিদের মাধ্যমে নগদ একশত টাকা আদায় করে। এবং দুপুরে ওই সেন্টারে গিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য এক/ দেড় হাজার টাকা করে অভিবাভকদের নিয়ে যেতে বলে। রক্ত নিতে আসা লাইফ কেয়ারের স্টাফ মুক্তি ভ্যাকসিনের প্রচারপত্রে তার মোবাইল  নম্বর ০১৯৮৫-১৬৭২৬১ শিশুদের অভিভাবকদের নিকট লিখে দিয়ে যায়।
খবর নিয়ে জানা গেছে, শিশুরা এখন বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে অনেকে বাসায় অবস্থান করছে। লাইফ কেয়ারের লোকজন ভ্যাকসিনের ফেরিওয়ালা সেজে বাসায় বাসায় গিয়ে রক্ত নিয়ে যাচ্ছে। ভ্যাকসিন দিয়ে মোটা অংকের ব্যবসার ফন্দি ফিকির করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন মহলে খবর নিয়ে জানা গেছে, এই সময় শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়ার মত কোন পরিস্থিতি দেশে উদ্ভব হয়নি। এই প্রতিবেদক লাইফ কেয়ার ভ্যাকসিন সেন্টারের ওই মুক্তির সাথে তার প্রদত্ত নাম্বারে যোগাযোগ করলে কিসের ভ্যাকসিন বা কি জন্য ভ্যাকসিন -এই বিষয়ে তিনি কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার ইকবাল বলেন, আন্দাজ করে ভ্যাকসিন দেওয়ার অধিকার কারো নেই। শিশুদের প্রয়োজনে ভ্যাকসিন সরকারীভাবে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, কেন ভ্যাকসিন, কিসের ভ্যাকসিন বা কোয়ালিটি কি- এইসব না দেখে শিশুদের মত স্পর্শকাতর বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কারোরই ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত নয়।

সুস্বাদু কদবেলের অসাধারণ গুণ

স্বাস্থ্য সময় ডেস্ক : চলছে সুস্বাদু কদবেলের ভরা মৌসুম। বাজারে এর প্রাপ্তিও বেশ। লবণ মরিচের গুড়ায় কদবেল ভর্তার নাম শুনলে সহজেই জিভে জল আসে যে কারো। শক্ত খোলসে আবৃত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ মৌসুমী এ ফল মূলত স্বাদের কথা বিবেচনা করেই খাওয়া হয়। তবে পুষ্টিগুণ বিচারে কদবেল সত্যিই অনন্য। কদবেলের আছে নানা পুষ্টিগুণ। এতে খাদ্যশক্তি রয়েছে কাঁঠাল ও পেঁয়ারার প্রায় সমান। আমিষের পরিমাণ রয়েছে আমের চেয়ে সাড়ে ৩ গুন, কাঁঠালের দ্বিগুন, লিচুর চেয়ে ৩ গুস, আমলকী ও আনারসের চেয়ে ৪ গুন বেশি এবং পেঁপের চেয়ে দ্বিগুনের একটু কম। প্রতি ১০০ গ্রাম কদবেলের পুষ্টিমান পানীয় অংশ ৮৫.৬ গ্রাম, খনিজপদার্থ ২.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৯ কিলোক্যালোরি, আমিষ ৩.৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৮.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫.৯ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৬ মিলি গ্রাম, ভিটামিন-বি ০.৮০ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন-সি ১৩ মিলিগ্রাম। জেনে নিন কদবেলে থাকা এসব উপাদান মানুষের শরীরে কী কী উপকার করতে সক্ষম।
পেটের রোগ নিরাময় : কদবেলে থাকা ট্যানিন নামক উপাদান দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া ও পেট ব্যথা ভালো করে। কদবেল গাছের বাকল মধু সঙ্গে মিশ্রিত করে খেলে পেটের রোগ আমাশয় ভারো করে। কাঁচা কদবেল ছোট এলাচ, মধু দিয়ে মাখিয়ে খেলে বদহজম দূর হয়। এই ফলের নির্যাস কলেরা এবং পাইলসের জন্য প্রতিষেধক ওষুধ হিসাবে কাজ করে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধক : কদবেলের নির্যাস ব্যাপকভাবে ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য আয়ূর্বেদী ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ : কদবেল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্নায়ুর শক্তি যোগায়। ত্বকের জ্বালা পোড়া কমাতে কদবেলের ক্বাথ মলম হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
কিডনি সুরক্ষা : কদবেল উদ্দীপক ও মূত্রবর্ধক কাজে বিশেষ উপাদেয়। এ ফল নিয়মিত খেলে কিডনি সুরক্ষিত রাখে। প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা কিডনি সমস্যা দূর করার জন্য সেরা প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে এটি ব্যবহার করতেন। এ ফল যকৃত ও হৃৎপিণ্ডের জন্যও বিশেষ উপকারী।
পেপটিক আলসার নিরাময়ে : কদবেল পাতার ক্বাথ পানীর সঙ্গে নিয়মিত পান করলে পেপটিক আলসার দ্রুত ভালো হয়। আলসারের খত সারাতে তাজা কদবেল বেশ কার্যকরী।
রূপচর্চায় সহায়ক : ব্র“ণ ও মেছতায় কাঁচা কদবেলের রস মুখে মাখলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
শ্বাসযন্ত্রের রোগ নিরাময় : কদবেল পাতার নির্যাস শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। দুধ এবং চিনি দিয়ে কদবেলের পাতা মিশিয়ে স্নেহপূর্ণ খাদ্য তৈরি হয়। এই রস শিশুদের পেটের ব্যথার চিকিৎসায় চমৎকার কাজ করে। কদবেল যকৃত ও হৃৎপিণ্ডের জন্যও বিশেষ উপকারী।
রক্ত স্বল্পতা রোধ : এই ফল রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। বুক ধড়ফড় এবং রক্তের নিম্নচাপ রোধেও সহায়ক। চিনি বা মিছরির সঙ্গে কদবেল পাউডার মিশিয়ে খেলে সঙ্গে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি হয় এবং রক্তস্বল্পতাও দূর হয়।

অদম্য মেধাবী ফারুক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়

আলী হায়দার মানিক : ফেনী শহরতলীর পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামের এক চা দোকানীর ছেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। অদম্য মেধাবী ইকবাল হোসেন ফারুকের বাবা ইলাশপুর রকমারী মৎস্য খামার সংলগ্ন স্থানে একটি চা দোকান করে। চা দোকান করে পরিবার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ায় হিমশিম খেতে দেখে ফারুকের মা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শুধু তাই নয় তার দুই বোনও ঝি এর কাজ করেন। মা এবং বোন উভয় ঝি এর কাজ করায় বাড়িতে একাই থাকতে হয় ফারুককে। সে রান্না-বান্নসহ যাবতীয় কাজের ফাঁকে নিয়মিত অধ্যয়ন করতো। সাধারনত রান্না-বান্না ও বাড়ির আনুসাঙ্গিক কাজগুলো মহিলারাই করে থাকে। কিন্তু ফারুকের মা ও বোন ঝি এর কাজ করায় সে সব কাজ করতে হতো। যাবতীয় কাজকর্ম করার পরও সে পড়া-লেখার পাশ্বাপাশি প্রাইভেট পাঠানোর জন্য গ্রামে গ্রামে ছুটে চলে। ফারুক জানায়, সে পরিবারের অভাব অনটন দেখে অষ্টম শ্রেণিতে পড়–য়া অবস্থা থেকেই প্রাইভেট পাড়ানো শুরু করে। পরিবারের অভাব অনটনের মধ্যে তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি জিপিএ-৫ পাওয়া। সে অভাব অনটনকে হারমানিয়ে জিপিএ-৫ ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। ফারুক ইলাশপুর গ্রামের মোলকত মেম্বার বাড়ির একরাম হোসেন ও রেজিয়া বেগমের ৫ সন্তানের মধ্যে ৪র্থ। সে পাঁচগাছিয়া এ জেড খাঁন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। ইকবাল হোসেন ফারুক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। সমাজের বৃত্তবানদের দোয়া ও সহযোগিতায় অদম্য মেধাবী ফারুক প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্যের প্রত্যয়  কামনা করেছে। এদিকে ফারুকের পিতা একরাম হোসেন জানান, তাদের কোন রকম জায়গা-জমি নেই। শুধু মাত্র এক থেকে দেড় শতাংশ বসত ভিটা আছে। যেখানো কোন রকম মাথা নোয়ানোর ঠাই হয়।
রকমারী মৎস্য খামারের স্বত্ত্বাধিকারী এডভোকেট আহসান হাবিব সাজু ফেনীর সময় কে জানান, নি:স্ব পরিবার হওয়ায় ফারুকের মা ও বোন তার বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে এবং তার বাবাকে খামারের পাশে একটি চা দোকান করা সুযোগ দেয়।

চার দেশে বাণিজ্যিকভাবে ‘আয়নাবাজি’

বিনোদন সময় ডেস্ক : সারাদেশের দর্শক মাতানোর পর এবার সীমানা পেরিয়ে বিদেশে পাড়ি দিলো ‘আয়নাবাজি’। বিশ্বের উন্নত চারটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পাচ্ছে এটি।
প্যারিসের পাবলিসিস সিনেমা হলে আগামী ১৭ নভেম্বর ‘আয়নাবাজি’র প্রদর্শনী হবে। এখানে অংশ নেবেন ছবিটির প্রযোজক জিয়াউদ্দিন আদিল, পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী ও কাহিনিকার গাউসুল আলম শাওন। গত মে মাসে ৬৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক শাখা মার্শে দ্যু ফিল্মে অংশ নেয় এটি।
জানা গেছে, পুরো সপ্তাহব্যাপী ‘আয়নাবাজি’র ১৪টি প্রদর্শনী হবে। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, সানফ্রান্সিসকো, অস্টিন, শিকাগো এবং ডালাস শহরে মুক্তি পাবে এই ছবি। একই দিন থেকে কানাডার টরন্টো ও ক্যালগেরি শহরের সিনেপ্লেক্সে চলবে এটি। ২৬ নভেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, ক্যানবেরা, মেলবোর্ন, ব্রিজবেইন, অ্যাডিলেড ও পার্থের সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে ‘আয়নাবাজি’।
এ প্রসঙ্গে প্রযোজক জিয়াউদ্দিন আদিল বলেন, ‘মুক্তির সাত সপ্তাহ পরও ব্যবসা করছে আমাদের ছবি। সারাদেশে ব্যাপক সাফল্য অর্জনের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ‘আয়নাবাজি’ সফল হবে আশা করি। বাংলাদেশি কোনো ছবির ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি আমাদের দেশের জন্য গৌরবের।’
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তির পর সাড়া জাগায় ‘আয়নাবাজি’। এখনও স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লাকবাস্টার সিনেমাস, শ্যামলী সিনেপ্লেক্স, বলাকা সিনেওয়ার্ল্ড, মধুমিতায় হাউসফুল হচ্ছে এটি। দেশের অভিনেতা, অভিনেত্রী, রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং উচ্চপদস্থ ও প্রখ্যাত ব্যক্তিরা সাধারণ দর্শকদের এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল সাউথ এশিয়ান চলচিত্র উৎসবে বেস্ট ন্যারেটিভ ফিল্ম পুরস্কার পেয়েছে ছবিটি।
‘আয়নাবাজি’তে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাবিলা, পার্থ বড়ুয়া, লুৎফর রহমান জর্জ, হিরা চৌধুরী, শওকত ওসমান, গাওসুল আলম শাওনসহ অনেকে। ছবিটির মূল ভাবনা গাওসুল আলম শাওনের; চিত্রনাট্যও তিনি লিখেছেন অনম বিশ্বাসের সঙ্গে। এর নির্বাহী প্রযোজক এশা ইউসুফ।

নজির আহম্মদ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা শুরু

ক্রীড়া সময় ডেস্ক : আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ফেনীতে শুরু হচ্ছে হাজী নজির আহম্মদ গ্রুপ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে শহরের খায়রুল আনোয়ার পেয়ারু জিমনেসিয়ামে আয়োজিত টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন করবেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো: আমিন উল আহসান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্থার সহ-সভাপতি ও পুলিশ সুপার মো: রেজাউল হক পিপিএম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবময় দেওয়ান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বি.কম, ফেনী পৌরসভার মেয়র হাজী আলাউদ্দিন ও হাজী নজির আহম্মদ গ্রুপের চেয়ারম্যান হাজী মো: নুর উদ্দিন। এ উপলক্ষ্যে আজ সকাল ১০টায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহার জানান, ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় ১৮টি দল অংশ নিবে। আগামী রবিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।

৬৪ তে পা রাখলেন কবি মনজুর তাজিম

সময় রিপোর্ট : ৬৪ তে পা রাখলেন কবি মনজুর তাজিম। ১৯৫২ সালের ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ায় পিতার কর্মস্থলে জন্মগ্রহন করেন। তার মাতা ফেরদৌস আরা বেগম ও মরহুম পিতা কাজী আহমেদুল হক এর দ্বিতীয় সন্তান। তারা ৪ ভাই ও ৪ বোন। তিনি ছোটকাল থেকে গ্রামের বাড়ী ছাগলনাইয়া উপজেলার হরিগ্রামে তাঁর শৈশব কাটে। তখন থেকে তার লেখালেখির হাতেখড়ি। তিনি ফেনী পাইলট হাই স্কুল থেকে ১৯৭০ সালে ম্যাট্টিক পাশ করে ফেনী সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে নোয়াখালী সরকারী কলেজ থেকে øাতক ডিগ্রী অর্জন করে।
এ যাবতকালে তার অন্তত ১০টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি অব্যাহতভাবে লিখে চলেছেন। কবির সহধর্মীনির নাম বিফলা তাজিম। অপু ও তপু দুই যমজ সন্তানের জনক।

ইন্টারনেটে বোকা হচ্ছে মানুষ !

সময় ডেস্ক : ইন্টারনেটের হাত ধরে মানুষ যখন দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় বেঁধে ফেলেছে, তখন ‘অন্তর্জাল’-এর ব্যবহারের ওপর প্রশ্ন তুললেন বিজ্ঞানীরা৷ নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনের ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী মানুষের পড়াশোনা সংক্রান্ত আচরণের ওপর গবেষণা করতে গিয়ে খুঁজে পেলেন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ তারা জানাচ্ছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে মানুষ দিন দিন বোকা হয়ে যাচ্ছে৷ ইন্টারনেটের বিশাল জগত আমাদের সামনে সীমাহীন তথ্যভাণ্ডার তুলে দিয়েছে। কিন্তু অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় পড়লে মানুষের চেতনা বা বোধশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা৷
ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ভ্যাল হুপার ও তার সহযোগী গবেষক চান্না হেরাথ অনলাইনে পড়াশোনা এবং অফলাইনে (বইপত্র) পড়াশোনার ধরন ও প্রভাব নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এতে দেখা যায়, ইন্টারনেটভিত্তিক পড়াশোনায় মানুষের মনে রাখার সামর্থের ওপর কোনোও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে না। তারা অনেক সময় নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেন।
অন্যদিকে, বই পড়ে মানুষ যে পরিমাণ গভীর মনোযোগ, উপলব্ধি, তথ্যধারণ ও স্মৃতিচারণা করতে পারেন, অনলাইন পড়াশোনায় তা সম্ভব নয়৷ইন্টারনেটে নিবিড় পড়াশোনার পরিবর্তে সাধারণত দ্রুত পড়ার প্রতি আকৃষ্ট হয় মানুষ। আবার ই-মেল, সংবাদ অনুসন্ধান, বিভিন্ন লিঙ্কে ঢুঁ মারা বা ভিডিও ক্লিপস দেখতে গিয়ে অনলাইনে নিবিড় পড়াশোনায় বিঘœ ঘটে৷হুপার বলেন, কম্পিউটারে পড়াশোনা করতে গেলে মনোযোগ অন্যদিকে যাবেই। এটাই প্রত্যাশিত৷
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, মনে রাখার সুবিধার্থে অনেকে ইন্টারনেটের বিভিন্ন বিষয় কাগজে প্রিন্ট করে নিয়ে তারপর পড়েন। এতে তাদের মনোযোগ বেশি থাকে এবং পড়াশোনার সুফলও পুরোপুরি পাওয়া যায়। আর সে কারণেই লোকজন এখনও কাগজে ছাপা অক্ষর পড়তেই বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন৷- ওয়েবসাইট।

December 2016
Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
27 28 29 30 1 2 3
4 5 6 7 8 9 10
11 12 13 14 15 16 17
18 19 20 21 22 23 24
25 26 27 28 29 30 31